গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের কার্যক্রম দ্রুততম গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার খবর প্রকাশের পর গতকাল ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। 'ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট'-এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই (PMI) সূচকটি 55.6 শতাংশে পৌঁছেছে; সূচকটি জুনের 53.3 শতাংশ থেকে 2.3 শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় 54 শতাংশের সর্বসম্মত পূর্বাভাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২২ সালের মে মাসের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ ফলাফল। এই খাতটি টানা সপ্তম মাসের মতো সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি টানা ২১তম মাসের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।
এই প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বব্যাপী এবং প্রতিবেদনের প্রায় সবকটি উপাদানই বৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে। নতুন অর্ডারের সূচকটি জুনের 56. শতাংশ থেকে বেড়ে 56.7 শতাংশে উন্নীত হয়েছে; এর ফলে টানা চার মাস সংকোচনের পর সূচকটি টানা সপ্তমবারের মতো সম্প্রসারিত হলো। উৎপাদন সূচকটি উল্লেখযোগ্যভাবে 6.3 শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে 58.5 শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া, ব্যাকলগ অর্ডারের সূচকটি জুনের 50.5 শতাংশ থেকে বেড়ে 55.0 শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনটি থেকে প্রাপ্ত কাঠামোগত দিক দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেতটি হলো কর্মসংস্থান খাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। জুন মাসে 49.7 শতাংশে থাকা কর্মসংস্থান সূচকটি বেড়ে 52.8 শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যার ফলে ৩৩ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সূচকটি ইতিবাচক অবস্থানে ফিরে এসেছে। উৎপাদন খাতে প্রায় তিন বছর ধরে অব্যাহতভাবে কর্মসংস্থান হ্রাসের পর এটি একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন; ফেডারেল রিজার্ভের উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকা শ্রমবাজারের দুর্বল পরিস্থিতির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র।
রপ্তানি খাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। নতুন রপ্তানি অর্ডার এবং আমদানি—উভয়ই বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে; এটি উৎপাদন খাতের অভ্যন্তরীণ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আমেরিকান পণ্যের প্রতি বৈদেশিক চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
মূল্যের ওপর চাপ ধীরে ধীরে কমতে থাকলেও তা এখনও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। জুন মাসে মূল্য সূচক 73.0 থেকে কমে 71.1-এ নেমে এসেছে—যা টানা তৃতীয়বারের মতো হ্রাসের ফলে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেয়; তবে সূচকটি টানা ষষ্ঠ মাসের মতো 70-এর উপরে অবস্থান করছে, যা মূলত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, শুল্ক এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের কারণে সৃষ্ট অব্যাহত চাপের প্রতিফলন।

একই সাথে, উৎপাদনকারীদের মনোভাব মিশ্রই রয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বেশ ইতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেদনে কিছুটা নেতিবাচক সংকেত লক্ষ্য করা গেছে; সেখানে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মতামতের অনুপাত প্রায় ১:১.৬। তাছাড়া, প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎপাদনকারীদের মূল উদ্বেগের বিষয় হিসেবে প্রথমবারের মতো পণ্যের দামের অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবকে ছাড়িয়ে গেছে। উদ্বেগের এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বাড়তি ঝুঁকি বা চাপ কিছুটা কমে এলেও, সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবের চেয়ে শুল্ক ও ব্যয় সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অধিকতর জরুরি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই মাসের অন্য একটি সূচকের ফলাফলের সাথে এই সূচকের ফলাফলের পার্থক্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আইএসএম সূচকে যেখানে তীব্র বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেখানে S&P গ্লোবাল সূচকটি 53.9-এ অপরিবর্তিত ছিল। S&P গ্লোবা সতর্ক করেছে যে, তাদের মূল সূচকটি আসলে "উৎপাদন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধীরগতির প্রবৃদ্ধিকে আড়াল করে রেখেছে"; পাশাপাশি বিজনেজ সেন্টিমেন্টও গত নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের কার্যক্রম অনুধাবনের এই প্রধান দুটি পদ্ধতির মধ্যকার অসামঞ্জস্য এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, জুলাই মাসের এই প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে অন্ধ আশাবাদের পরিবর্তে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করা দরকার।